
যাদুকর ও যাদুর বস্তু খোঁজে পাওয়ার পদ্ধতি
কে যাদু করেছে! যাদুর বস্তু কোথায় আছে? এটা জানার কোন মৌলিক মাধ্যম আসলে নেই। তবে অনেক সময় রুক্বইয়া চলাকালীন জ্বিন সহ্য করতে না পেরে যাদুকর এবং যাদুর বস্তুর কথা প্রকাশ করে দেয়।
কোন শারঈ রাক্বী এটা কখনোই বলতে পারবেন না, যাদুর উপকরণ কোথায় আছে। কারণ এটা সম্পূর্ণ গায়িব এর বিষয়। অনেক কবিরাজ-তান্ত্রিক যাদুর বস্তু কোথায় আছে তা জানার দাবি করে, তারা মূলত জ্বিনের সাহায্যেই এই কাজ করে থাকে, যা স্পষ্ট কুফর এবং শিরক। এমন ব্যক্তিদের কাছে গিয়ে ট্রিটমেন্ট নেয়া কোনভাবেই বৈধ নয়। তারা মূলত প্রতারক ও মিথ্যাবাদী। মূলত মারিদ জ্বিন অথবা তারা যে জ্বিনের পূজা করে থাকে, তার মাধ্যমে সত্য-মিথা মিশ্রিত তথ্য সংগ্রহ করে।
যাদুর বস্তু কোথায় আছে তা যদি জানা সম্ভবই হতো, তবে রাসূল সা. তা জানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু উনিও তা জাগ্রত অবস্থায় জানতে পারেননি, বরং উনাকে ঘুমের সময়ে স্বপ্নযোগে মূলত জানানো হয়েছে।তিনি জেনেছিলেন, তার যাদু আছে কূপে। যাদুর করা হয়েছে চিরুনি,চুল ইত্যাদি দিয়ে। যাদুকর ছিল ইয়াহুদী লাবীদ ইবনু আ'সাম।( সহীহ বুখারী)
হাদীস থেকে যাদুর বস্তু কোথায় আছে তা জানার কেবল একটাই বিকল্প পদ্ধতি আমরা দেখতে পাই। আর তা হলো স্বপ্নের মাধ্যমে জানা ।ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে। হাদীসে একে নবুয়তের ৩৬ ভাগের ১ ভাগ বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভাল স্বপ্ন অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাইন বহন করে থাকে।
যেভাবে আমল করবেন : প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে অযু করে ‘সালাতুল হাজত’ এর নিয়তে ২ রাকাত সালাত আদায় করবেন। প্রথম রাকাতে সূরা ফালাক, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা নাস পড়বেন। অত:পর সালাত শেষে আল্লাহর কাছে এই দুয়া করবেন, যাতে তিনি যাদুকরদের দেখিয়ে দেন এবং মূল যাদুর উপকরণ কোথায় আছে, তা স্বপ্নে আপনাকে দেখান। এভাবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই আমলটি করুন। ইন শা আল্লাহ যাদুকর এবং যাদুর বস্তু কোথায় আছে তা জানা সম্ভব হবে। আল্লাহ স্বপ্নের মাধ্যমে আপনার সামনে তা উপস্থাপন করবেন।
সতর্কতা: জ্বিন-শাইত্বানের একটি বৈশিষ্ট্য হলো ধোঁকা দেয়া। তাই জ্বিন স্বপ্নযোগে কখনও যাদুকর হিসেবে এমন ব্যক্তিদের দেখাতে পারে যারা সত্যিকার অর্থেই আপনার কল্যাণকামী। সে কেবল আপনাকে বিভ্রান্ত করা এবং সম্পর্ক নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এমনটা করতে পারে। আবার যাদুর উপকরণের এমন যায়গাও দেখাতে পারে, যেখানে আসলে যাদু নেই। তাই প্রতিনিয়ত আমলটি করে এরপর সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে। একদিন স্বপ্নযোগে কাউকে দেখলেই তাতেই নিশ্চিত হওয়া যাবে না। বরং এভাবে কয়েকবার উপরোক্ত আমলটি করে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে।