
জ্বিনদের কমন কিছু বৈশিষ্ট্য
কেউ জ্বিন দ্বারা পজেসড হলে জ্বিনদের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য পেশেন্টদের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে তা দেয়া হলো:
১. যে সমস্ত জ্বিন মানুষদের পজেসড করে, তারা সাধারণত হিংসা প্রবণ হয়ে থাকে। ফলে যিনি ভিক্টিম থাকেন, তার মধ্যেও হিংসাত্মক বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। না চাইতেও ব্যক্তি অন্যের সুখ, সম্পদ, মর্যাদা ইত্যাদির প্রতি হিংসা প্রবণ হয়ে পড়েন।
২. জ্বিন শব্দের অর্থ হলো লুকায়িত থাকা। জ্বিনেরা সাধারণত লুকায়িত থাকতে পছন্দ করে। ফলে ভিক্টিমও নিজেকে সমাজ থেকে আলাদা করে ফেলে। কারও সাথে মেশা, কথা বলা, লোক সংস্পর্শে যেতে চায় না। নিজেকে আড়াল রাখতে চায় সর্বদা।
৩. জ্বিনেরা সাধারণত রাতের বেলা চলাফেরা করতে পছন্দ করে অর্থাৎ তারা অন্ধকার ভালোবাসে। ফলে ভিক্টিমের মধ্যেও এ সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। সর্বদা অন্ধকার পছন্দ করেন, আলো অসহ্য লাগে। অন্ধকারে থাকতেই সর্বদা সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
৪. ধোঁকা দেয়া। যেসব জ্বিন মানুষের সংস্পর্শে আসে এরা প্রায় সবাই মিথ্যুক হয় এবং মানুষদের ধোঁকা দেয়। এই বদগুণটিও ব্যক্তির মধ্যে দেখা দেয়। সে নিজের অজান্তেই মানুষকে ধোঁকা দেয়, কথা দিয়ে কথা রাখতে পারেন না। নিজের অজান্তেই সকলের কাছে একজন ওয়াদাভঙ্গকারী হিসেবে উপস্থিত হোন।
৫. জ্বিনেরা সাধারণত অশ্লীলতার প্রতি আকর্ষিত হয়। ফলে যিনি ভিক্টিম হোন, তার মধ্যেও অশ্লীলতা, যিনা, ব্যভিচার এসবের দিকে তীব্র আকর্ষণ অনুভব করেন, যা স্বাভাবিক নয়।
৬. বিচ্ছেদ। জ্বিনেরা হিংসাপ্রবণ হওয়াতে সুসম্পর্ক পছন্দ করে না। ফলে তারা সকলের সাথেই বিচ্ছেদ তৈরি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। ভিক্টিম হাজার চেষ্টা করেও মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করতে পারেন না।
৭. যেসব জ্বিন মানুষকে পজেস করে, তারা সাধারণত অপবিত্র থাকে। ফলে ভিক্টিমের মধ্যেও এ সমস্যা দেখা দেয়। পবিত্রতার ব্যপারে উদাসীন থাকেন, অপবিত্রতা থেকে লবিত্রতা অর্জনে যথেষ্ট অলসতা সৃষ্টি হয়।
৮. জ্বিনেরা আগুণের তৈরি। তাই কেউ জ্বিন দ্বারা পজেসড হলে ব্যক্তির মধ্যে গায়ে জ্বালাপোড়া করা, জ্বরজ্বর ভাব, সর্বদা শরীর গরম থাকা ইত্যাদির সমস্যা সৃষ্টি হয়।
৯. ইফরিত অথবা মারিদ জ্বিন এরা সাধারণত অহংকারী প্রকৃতির হয়ে থাকে। কেউ এদের দ্বারা পজেসড হলে তার স্বভাবের মধ্যে অহংকার, কথা টলারেট করতে না পারা, অতিরিক্ত রাগ করা-এ ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়।
১০. যেসব জ্বিন মানুষকে পজেস করে তারা স্বভাবতই জালিম ও ফাসিক হয়, যার ফলে তারা মুসলিম হলেও আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে। একই সমস্যা ভিক্টিমের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। ভিক্টিমও দ্বীন-ঈমান থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। আল্লাহ থেকে দিনে দিনে দূরে সরে পড়েন৷ ইবাদত করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।