
খাওয়ানোর মাধ্যমে করা জাদুর চিকিৎসা
খাওয়া ও পানীয়ের মাধ্যমে সংঘটিত জাদুর চিকিৎসা:
১. নিজেই নিজের জন্য পড়বে, অথবা অন্য কেউ তার জন্য পড়বে, যা পড়তে হবে: সূরা আল-ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, মুআওয়াযাতাইন (সূরতুল ফালাক ও নাস), ও আজান দিবে এবং সমস্ত “রুকইয়াতুল ইবতালিসসিহির” (জাদু নষ্টের দোয়া-সমূহ)।
এর সাথে নিম্নোক্ত আয়াত ও দোয়াগুলোও পড়তে হবে।
(i)
اِنَّ شَجَرَتَ الزَّقُّوۡمِ ﴿ۙ۴۳﴾ طَعَامُ الْاَثِیۡمِ ﴿ۖۛۚ۴۴﴾ کَالْمُہۡلِ ۚۛ یَغْلِیۡ فِی الْبُطُوۡنِ ﴿ۙ۴۵﴾ کَغَلْیِ الْحَمِیۡمِ ﴿۴۶﴾ خُذُوۡہُ فَاعْتِلُوۡہُ اِلٰی سَوَآءِ الْجَحِیۡمِ ﴿٭ۖ۴۷﴾ ثُمَّ صُبُّوۡا فَوْقَ رَاۡسِہٖ مِنْ عَذَابِ الْحَمِیۡمِ ﴿ؕ۴۸﴾ ذُقْ ۚۙ اِنَّکَ اَنۡتَ الْعَزِیۡزُ الْکَرِیۡمُ ﴿۴۹﴾
اِنَّہٰذَا مَا كُنۡتُمۡ بِہٖ تَمْتَرُوۡنَ ﴿۵﴾
অনুবাদ: যাক্কুম গাছ পাপীর খাদ্য (হবে); গলিত তামার মত (গরম), যা (তাদের) পেটে (টগবগ করে) ফুটবে যেমন গরম পানি ফোটে। (জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) “পাপীটাকে ধর এবং জাহান্নামের (জ্বলন্ত আগুনের) মাঝখানে টেনে নিয়ে যাও। তারপর তার মাথার ওপর ফুটন্ত পানির আজাব ঢেলে দাও (তার মাথার ওপর ফুটন্ত পানি ঢেলে তাকে আজাব দাও)।” (তাকে বলা হবে) “স্বাদ গ্রহণ করো, তুমি তো শক্তিশালী, সম্ভ্রান্ত! (যেমনটি তুমি দুনিয়ায় দাবি করতে।)” এটাই তাই, যার ব্যাপারে তোমরা সন্দেহ করতে।(দুখান ৪৩-৫০)
أَبْطِلْ كُلَّ سِحْرٍ مَأْكُولٍ وَمَشْرُوبٍ
হে আল্লাহ! সকল খাওয়া ও পানীয়জনিত জাদু নষ্ট করে দিন।
(ii)
اِنَّ الَّذِیۡنَ یَكۡتُمُوۡنَ مَاۤ اَنۡزَلَ اللّٰهُ مِنَ الۡكِتٰبِ وَ یَشۡتَرُوۡنَ بِهٖ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ۙ اُولٰٓئِكَ مَا یَاۡكُلُوۡنَ فِیۡ بُطُوۡنِهِمۡ اِلَّا النَّارَ وَ لَا یُكَلِّمُهُمُ اللّٰهُ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَ لَا یُزَكِّیۡهِمۡ ۚۖ وَ لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ﴿۱۷۴﴾
অনুবাদ: কিতাব হতে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, যারা এটা গোপন করে এবং এর বিনিময়ে স্বল্প মূল্য গ্রহণ করে, এরা নিজেদের পেটে একমাত্র আগুন ভক্ষণ করে, ওদের সাথে আল্লাহ ক্বিয়ামাতের দিন কথা বলবেন না এবং ওদেরকে পবিত্রও করবেন না; এবং ওদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।( সুরা বাকারা ১৭৪)
بِسْمِ اللَّهِ تُفَجَّرْ عُقَدَ الْمَعِدَةِ
অর্থ: আল্লাহর নামে পাকস্থলীর সব গিট খুলে যাক।
(iii)
اِنَّ الَّذِیۡنَ یَاۡكُلُوۡنَ اَمۡوَالَ الۡیَتٰمٰی ظُلۡمًا اِنَّمَا یَاۡكُلُوۡنَ فِیۡ بُطُوۡنِهِمۡ نَارًا ؕ وَ سَیَصۡلَوۡنَ سَعِیۡرًا ﴿۱۰﴾
অনুবাদ : যারা ইয়াতীমদের মাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তো নিজেদের পেটে কেবল অগ্নিই ভক্ষণ করে, তারা শীঘ্রই জ্বলন্ত আগুনে জ্বলবে।( সুরা নিসা ১০)
بِسْمِ اللَّهِ تُفَكُّ عُقَدُ الْقُوْلُوْنِ
“আল্লাহর নামে বৃহদান্ত্রের(পেটের নীচের অংশ) সব গিট খুলে যাক।”
(iv)
. وَ سُقُوۡا مَآءً حَمِیۡمًا فَقَطَّعَ اَمۡعَآءَهُمۡ ﴿۱۵﴾
অনুবাদ: তাদেরকে ফুটন্ত পানি পান করানো হবে ফলে তা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে?( সুরা মুহাম্মদ ১৫)
اللَّهُمَّ احْرِقْ عُقَدَ الْأَمْعَاءِ
“হে আল্লাহ!পেটের ভেতরের নালীর(অন্ত্রের) সব গিট পুড়িয়ে দিন।”
اللَّهُمَّ فَجِّرْ عُقَدَ الْأَمْعَاءِ
“হে আল্লাহ!পেটের ভেতরের নালীর( অন্ত্রের)সব গিট খুলে দিন।”
(v)
. وَ سُقُوۡا مَآءً حَمِیۡمًا فَقَطَّعَ اَمۡعَآءَهُمۡ ﴿۱۵﴾
অনুবাদ: তাদেরকে ফুটন্ত পানি পান করানো হবে ফলে তা তাদের নাড়িভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে?( সুরা মুহাম্মদ ১৫)
اللَّهُمَّ احْرِقْ عُقَدَ الْأَمْعَاءِ
হে আল্লাহ! পেটের ভেতরের নালীর (অন্ত্রের) সব জাদুর গিট পুড়িয়ে দিন।
اللَّهُمَّ فَجِّرْ عُقَدَ الْأَمْعَاءِ
হে আল্লাহ! পেটের ভেতরের নালীর (অন্ত্রের) সব জাদুর গিট খুলে দিন।
(vi)
ثُمَّ اِنَّكُمْ اَیُّہَا الضَّآلُّوۡنَ الْمُکَذِّبُوۡنَ ﴿ۙ۵۱﴾ لَاٰکِلُوۡنَ مِنۡ شَجَرٍ مِّنۡ زَقُّوۡمٍ ﴿ۙ۵۲﴾ فَمَالِـُٔوۡنَ مِنْہَا الْبُطُوۡنَ ﴿ۚ۵۳﴾ فَشٰرِبُوۡنَ عَلَیۡہِ مِنَ الْحَمِیۡمِ ﴿ۚ۵۴﴾ فَشٰرِبُوۡنَ شُرْبَ الْہِیۡمِ ﴿ؕ۵۵﴾
অনুবাদ: অতঃপর, হে পথভ্রষ্ট অবিশ্বাসীরা! তোমরা অবশ্যই যাক্কূম গাছ (তিক্ত ফলবিশিষ্ট একপ্রকার কণ্টকবৃক্ষ) থেকে আহার করবে, তা দিয়ে উদর পূর্ণ করবে, তার ওপর গরম পানি পান করবে, পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের মত।
اللَّهُمَّ أَبْطِلِ السِّحْرَ الْمَشْرُوبَ
অর্থ: হে আল্লাহ! পানীয়ের জাদু নষ্ট করুন।
(vii)
ہٰذٰنِ خَصْمٰنِ اخْتَصَمُوۡا فِیۡ رَبِّہِمْ ۫ فَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا قُطِّعَتْ لَہُمْ ثِیَابٌ مِّنۡ نَّارٍ ؕ یُصَبُّ مِنۡ فَوْقِ رُءُوۡسِہِمُ الْحَمِیۡمُ ﴿ۚ۱۹﴾ یُصْہَرُ بِہٖ مَا فِیۡ بُطُوۡنِہِمْ وَالْجُلُوۡدُ ﴿ؕ۲۰﴾ وَلَہُمۡ مَّقَامِعُ مِنْ حَدِیۡدٍ ﴿۲۱﴾ كُلَّمَاۤ اَرَادُوۡۤا اَنۡ یَّخْرُجُوۡا مِنْہَا مِنْ غَمٍّ اُعِیۡدُوۡا فِیۡہَا ٭ وَذُوۡقُوۡا عَذَابَ الْحَرِیۡقِ ﴿٪۲۲﴾
অনুবাদ: এরা (বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসীরা) দুই প্রতিপক্ষ। তারা তাদের প্রভু সম্বন্ধে পরস্পর বিতর্ক করে। অতএব, অবিশ্বাসীদের জন্য আগুনের পোশাক তৈরী করা হয়েছে। তাদের মাথার ওপর থেকে ফুটন্ত পানি ঢেলে দেওয়া হবে। এর দ্বারা তাদের পেটের বস্তু ও চামড়া গলিয়ে দেওয়া হবে। আর তাদের (শাস্তি দেওয়ার) জন্য থাকবে (বাঁকা করে তৈরী) লোহার আঁকড়া। যখনই তারা কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে তখনই তাদেরকে সেখানে ফেরত পাঠানো হবে। আর বলা হবে, “অগ্নিদহনের যন্ত্রণা আস্বাদন কর।”
بِسْمِ اللَّهِ تُفَجَّرُ عُقَدُ الْكُلْيَتَيْنِ
অর্থ: আল্লাহর নামে কিডনির সব গিট খুলে যাক।
(উল্লেখিত প্রতিটি আয়াত ও দোয়াগুলো আমরা বার বার পুনরাবৃত্তি করব, এবং এর সাথে সাধারণ জাদু নষ্ট করার রুকইয়া এবং হিংসা (হাসাদ) নাশ করার রুকইয়া করব। প্রতিদিন যথাসম্ভব ধারাবাহিকভাবে এবং পুনরাবৃত্তির মাধ্যামে চালিয়ে যাওয়া )।
২. খাওয়া বা পানীয়ের মাধ্যমে করা জাদুর চিকিৎসার জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো, "এক লিটার পানি নিয়ে তাতে সূরা ফাতিহা ৭ বার, আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, নাস এবং জাদু নষ্ট করার রুকইয়া পড়া হবে অত:পর এটি প্রতিদিন খালি পেটে পান করবে । পানি পান করার পর সবচেয়ে ভালো হয় বমি করা। পাশাপাশি প্রতিদিন দুই চামচ জৈতুনের তেলও খাওয়া উচিত।
(প্রতি মাসে একবার বমি আসার প্রক্রিয়া পুনরাবৃত্তি করা। বমি আসার উপায় আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি,যেমন—
ক্যাস্টর অয়েল (তিলের তেল)
কালোজিরা (হাব্বা মুয়াল্লাক)
সোনা (সোনার পাতার চূর্ণ)
রাউন্ডের পাথর (পিষে ব্যবহার)
অথবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতি।
সতর্কতা:
কাউকে যখন বমি করতে বলা হবে,
তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা :
“আপনি বমি করেছেন, তাতে সুতো, চুল বা অদ্ভুত কিছু বের হয়েছে কিনা?"
আমাদের অভিজ্ঞতায় এমনও হয়েছে যে, বমির মাধ্যমে পোকামাকড়, চুল, সুতো, মাংসের টুকরো, চর্বি, এমনকি লোহার কিছু বা পেরেকও বের হয়ে এসেছে।( অনেকের ক্ষেত্রে এমনটা না হয়ে কেবল কফও বের হতে পারে)
বমি আনা আপনার চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ইনশাআল্লাহ।
~ আরবি থেকে অনুবাদকৃত