
নিজের উপর নিজের বদনজর নাকি জ্বিনের বদনজর?
ভাল কাজের চিন্তা করেছেন , কিন্তু কোন এক অজানা কারণে সে কাজ আর করে ওঠে হয় না, কাউকে কোন প্ল্যান এর কথা শেয়ার করেছেন, কিন্তু শেয়ার করলেই সেটা আর বাস্তবায়ন করতে পারেন না, নিজের কোন বিষয়ে প্রশংসা নিজে করলেই সে জিনিস একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকেই এমন পরিস্থিতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, হতাশা নেমে আসে। এসব হওয়ার পিছনে কারণ খুঁজে পান না। আবার অনেকেই ভাবেন নিজের উপর নিজের বদনজর লাগছে না তো!
আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও কেইস স্টাডি থেকে পেয়েছি যারা সাধারণত জ্বিন দ্বারা পজেসড থাকেন তাদের ক্ষেত্রেই এমনটা হয়ে থাকে। মূলত যখনই আপনি কোন ভাল কাজের চিন্তা করেন, অথবা ভাল কাজের প্রশংসা কেউ করে, ঠিক তখনই ওই কাজ, কথা বা চিন্তার ওপর জ্বিন তীব্র আইন তথা বদনজর প্রদান করে। জ্বিন-শাইত্বান প্রত্যেক এমন ভাল কাজের উপর আইন তথা বদনজর দিয়ে থাকে যার মাধ্যমে আপনি আপনার জীবনে ভাল কিছু অর্জন করতে পারবেন। জ্বিন শাইত্বান আপনার ভাল কাজগুলো সহ্য করতে পারেনা, সে হয় হিংসুক প্রকৃতির, তাই প্রত্যেকটি ভাল কাজ, গুণ, সম্পদ ইত্যাদি সে বদনজর দিয়ে ধ্বংস করতে বদ্ধ পরিকর থাকে।
জ্বিনের বদনজর বর্শাল অগ্রহভাগের চেয়েও ধারালো হয়ে থাকে। অর্থাৎ মানুষের চেয়েও জ্বিনের বদনজর অধিক ভয়ংকর হয়ে থাকে, তূলনামূলক দ্রুত পতিত হয়, ক্ষতিকর প্রভাবও অনেকখানি বেশি।
শরীরে থাকা জ্বিনের বদনজর থেকে সুস্থ হতে করনীয়:
ক. বদনজরের গোসল। সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা ফালাক, সূরা নাস, দুরুদ প্রত্যেকটা ৭ বার পড়ে বালতিতে ফু দিয়ে গোসল করতে হবে। নিয়ত: ‘হে আল্লাহ জ্বিন-শাইত্বান যত প্রকার বদনজর আমার কাজকর্মের উপর দেয়, সমস্ত বদনজরকে ধ্বংস করে দিন।’ উক্ত সাজেশন ১৪ দিন কেউ ঠিকঠাকমতো ফলো করলে এ সমস্যা থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে এটাই যথেষ্ট হবে।
খ. হাসাদের তিলওয়াত নিয়মিত শোনা। এটাও ১৪ দিন ফলো করা। নিয়ত: আল্লাহ যাতে জ্বিনের হাসাদ এবং আইন উভয়েই ধ্বংস করেন। ( তিলওয়াতের লিংক কমেন্টবক্সে)
গ. সূরা কাহফের ৩৯ নং আয়াত প্রতিদিন মাথায় হাত দিয়ে রুক্বইয়ার নিয়তে ৩/৪ মিনিট ধরে বারংবার তিলওয়াত করা। বিশেষ করে আয়াতের “ মা শা আল্লাহ” অংশটুকু বেশি করে পড়া। এটাও ১৪ দিন করা। ৫ ওয়াক্ত সালাতের পর ৩/৪ মিনিট করে তিলওয়াত করলে বেশি ফায়দা পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ। সম্ভব না হলে দিনে একবার তিলওয়াত করলেও হবে।