
ওয়াসওয়াসা রোগীদের করণীয়
ওয়াসওয়াসা- এক কমন রোগ আমাদের। কখনো নফসে আম্মারা কখনো শয়তান, পেইন দিয়েই চলে আমাদের। চিন্তিত থাকছেন সর্বক্ষণ আপনি। কিংবা ওযু গোসলে সংশয়, এই বুঝি ভেঙে গেলো। সালাতে দাড়ালে মন যেনো রাখা এক প্রকার হাতের উপর আগুন রাখা! মনে হয় কেউ কানের কাছে ফিস ফিস করছে। কিংবা মনে অশ্লীল খারাপ চিন্তা উদ্ভুত হচ্ছে। তার বিপরীতে কি করবেন আপনি? এই অশান্তির অঙ্গার দূর করবেন কিভাবে?
প্রথমত, গুনাহ ছাড়তে হবে। গুনাহে নিমজ্জিত থাকলে অনেক নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হবেন। দ্বিতীয়ত কিংবা প্রথমত, পাত্তা দেয়া চলবে না। স্বাভাবিক ভাবেই আপনি আপনার কাজ চালিয়ে যান। তারপরও বারবার আক্রমন এলেও কি করার! নিচের স্টেপ গুলো ফলো করতে পারেন।
১. أَعُوْذُ بِاللّٰهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجيْمِ পড়ে শয়তানকে ঘৃণা করে বা'দিকে ৩ বার থু থু নিক্ষেপ করুন। (সালাতে ওয়াসওয়াসা এলে এই স্টেপ নিন। ঘুমের মাঝেও)
২. সর্বাবস্থায় আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করুন।
৩. সূরা মুমিনুন এর আয়াত ৯৭-৯৮ দুআ হিসেবে পাঠ করুন। (সকাল সন্ধ্যা ৩ বার, আলিমের মত, হাদিস না)
رَّبِّ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ (٩٧) وَأَعُوْذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَّحْضُرُوْنِ (٩٨)
হে আমার রব, আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার কাছে পানাহ চাই (৯৭) আর হে আমার রব, আমার কাছে তাদের উপস্থিতি হতে আপনার কাছে পানাহ চাই।(৯৮)
৪. নফসে আম্মারা আর শয়তান চায়, আপনি আমি আল্লাহর ইবাদত থেকে বঞ্চিত হই, দূরে থাকি। তাই, ওয়াসওয়াসা এলে শাস্তি স্বরূপ আমল করুন। সহজ ইবাদত হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির করুন। لَا إلٰهَ إلَّا اللَّهُ পড়ুন; চাইলে নির্দিষ্ট করে নিতে পারেন ১০/২০/৩০ বার।
৫. এরপরও করেই চললে, দ্রুত ওয়াশরুমে যান, দ্রুত ওযু করুন দু রাকাত সালাতের উদ্দেশ্যে। দ্রুত না করলে আবার ওয়াসওয়াসা দিয়ে এখান থেকেও পদস্খলন ঘটাতে পারে বেটা।
৬. এই দুআ টিও পড়তে পারেন, কাজে দিবে ইন শা আল্লাহ; সকাল সন্ধ্যা ৩বার করে, বেশি পারলে সালাতের আগে-পড়ে;
أعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ، مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ، وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِيْنِ، وَأن يَّحْضُرُوْنِ
আমি আশ্রয় চাই, আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম সমূহের দ্বারা তাঁর ক্রোধ থেকে, তাঁর শাস্তি থেকে এবং তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, আর শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তাদের উপস্থিতি থেকে।(মুয়াত্তা মালিকি)
৭. আয়াতুল হারক বা আযাব/জাহান্নামের বর্ণনা সংক্রান্ত আয়াত গুলো বেশি বেশি পড়ুন। অন্তরে ভয় যেনো জাগ্রত হয়।
৮. মাসনূন জিকির গুলো বেশি বেশি আদায় করা। ওয়াশরুমে যাবার দোয়া, কাপড় পরিধানের দোয়া ইত্যাদি। বিশেষত একটা দুআর কথা বলবো, যা সকালে পড়লে সন্ধ্যা অব্দি শয়তান থেকে মুক্ত থাকবেন। অনুরূপ সন্ধ্যায় পড়লে সকাল অব্দি। ১০০ বার করে।
لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই, সকল রাজত্ব তাঁরই এবং তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা। আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। (বুখারী, মুসলিম)
৯. ঈমানদার কোনো ভাই/বোন বা হক্কানী বিজ্ঞ আলিমের সাথে সুসম্পর্ক রাখা, বেশি বেশি তাদের মজলিসে বসা। অন্তরে নূর আসবে। ইবাদতে তখন আসবে প্রশান্তি, ঈমানী জোর বৃদ্ধি পাবে।
১০. ওয়াসওয়াসা দূরীকরণের নিয়তে হিজামা করাতে পারেন। এক্ষেত্রে আগে বলে নিবেন, হিজামা কোন নিয়তে করাচ্ছেন।
১১. সেল্ফ রুকাইয়া করতে পারেন। তেল/পানিতে রুকাইয়ার আয়াত ৩/৭ বার পড়ে দম করে সেই তেল/পানি ব্যবহার (মালিশ) করতে পারেন। কিংবা পান করতে বা গোসল করতে পারেন পানি দিয়ে। রুকাইয়ার জন্য কিছু আয়াত;
সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা নাস, সূরা ফালাক, সূরা ইখলাস, সূরা মূমিনুন (৯৭-৯৮), আয়াতুল হারক, বর্ণিত কিছু দুআ।
১২. ঈমানের ওয়াসওয়াসা এলে বেশি বেশি সূরা ইখলাস পড়ুন। সাথে এই দুআ টিও পড়তে পারেন;
هُوَ الْأوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ، وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمٌ.
তিনিই আদি ও অন্ত এবং প্রকাশ্য ও গুপ্ত। কারণ তিনিই সবকিছু সমন্ধে সর্বজ্ঞাতা।(মুসলিম)
এরপরও যদি রেহাই না পান, তাহলে যাই হোক না কেনো, আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। মনে রাখবেন, "চোর তো ফকিরের বাড়িতে আসে না।" আর তাই নিজেকে নিয়ে বেশি চিন্তিত হবার কারণ নেই।