
যাদু ধ্বংসের দুই কার্যকর পদ্ধতি
১. যাদুর উপকরণকে ধ্বংস করার মাধ্যমে।
যাদুর উপকরণকে ধ্বংস করার অনেক ভুল পদ্ধতি আমাদের দেশে প্রচলিত রয়েছে যেগুলোতে আদতে যাদু ধ্বংস হয় না বরং আগের অবস্থানেই থাকে। যেমন: কেউ পানিতে ফেলে , কেউ পুড়ি ফেলে, কেউ বা আবার মাটির নিচে পুতে রাখে। এগুলো সবগুলোই ভুল পদ্ধতি এবং কিছুক্ষেত্রে যাদু নষ্টের পদ্ধতি হারাম ও কুফর । এ নিয়ে ইন শা আল্লাহ পরবর্তী অন্য আরেক পোস্টে আলোচনা হবে।
মূলত যাদু আল্লাহর ইচ্ছায় ধ্বংস হয় রুকইয়ার প্রসিদ্ধ আয়াত ও সূরা, সিহরের(যাদু) আয়াত এবং হালাক (ধংসের আয়াত) রিলেটেড আয়াত দ্বারা । সাথে সুন্নাহসম্মত ও হালাল দুয়া এবং হালকা থুতু মিশ্রিত ফুঁ যাদু ধ্বংসে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
২. যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির শরীরে যাদুর প্রভাবকে ধ্বংস করার মাধ্যমে।
প্রথম পদ্ধতিতে যাদু ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি সহজভাবে বুঝে আসলেও দ্বিতীয়টি অনেকেরই বুঝে আসে না। দ্বিতীয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে আগে জেনে নেয়া যাক, যাদু আসলে কিভাবে কাজ করে?
কাউকে তাবিজ বা তার কাপড়ের অংশ অথবা ভিন্নকিছু দিয়ে জাদু করা হলো। এখন এ যাদু রাখা হয়েছে কবরে বা পানিতে। কিন্তু এ যাদুর প্রভাব ব্যক্তির শরীরে কিভাবে পড়ে!
সাধারণত কবিরাজ/তান্ত্রিকরা যখন যাদু করে তখন যাদুর উপকরণ এর সাথে জ্বিন চালান দেয়। ফলে যাদু যার ওপর করা হয় ওই জ্বিন তার শরীরে প্রবেশ করে। এবার এই জ্বিন যাদুর উপকরণ ও ব্যক্তির মধ্যে এক ধরণের সংযোগ তৈরি করে যাতে সে (জ্বিন) যাদুকে সক্রিয় রাখতে পারে । আল্লাহর ইচ্ছায় যখন রুকইয়া মাধ্যমে পেশেন্টের শরীরে থাকা যাদু প্রভাব ধ্বংস হয়ে যায় তখন যাদুর উপকরণের কার কোন কার্যাবলী থাকে না।
ধরুন আপনি একটি সেতুর এক প্রান্ত ভেঙ্গে দিলে আরেক প্রান্তের কি কোন কার্যাবলী থাকে?
ঠিক একইভাবে যিনি মাসহূর( যাদুগ্রস্থ) তার শরীরে থাকা যাদুর প্রভাব ধ্বংস করে দিলে যাদুর উপকরণ এর আর কোন কার্যাবলী থাকে না।
এভাবেই আল্লাহর ইচ্ছাতে দ্বিতীয় পদ্ধতিতে যাদু ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহু মুস্তা'আন।