
কে যাদু করবে আমাকে?
যখন রোগীকে বলা হয় আপনার লক্ষণসমূহ বলে দিচ্ছে আপনি যাদুগ্রস্থ। তখন অনেকেরই কমন প্রশ্ন হলো " কে করবে আমাকে যাদু?"
তার আগে যাদু কি এই ব্যাপারে ছোট্ট ধারণা দেয়া প্রয়োজন, যাদু হলো নির্দিষ্ট কিছু নিয়মতান্ত্রিক কুফরি কাজ যার মাধ্যমে জিনের সাহায্য নিয়ে কাউকে কোনো উদ্দেশ্যে (বিচ্ছেদ, পাগল, অসুস্থ) যাদু করা, এতে শাইত্বান অই ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে উক্ত উদ্দেশ্য সফল করতে পারে।
আপনি দুভাবে যাদুগ্রস্থ হতে পারেন।
প্রথমত: মানুষের পক্ষ থেকে যাদু।
মানুষের পক্ষ থেকে যাদু ৫ কারণে হয়ে থাকে:
১. হিংসা এবং লোভ: আমাদের পরিবার-পরিজনের মধ্যেই এ শ্রেণী আছে। তারা সাধারণত অন্যের ভাল সহ্য করতে পারেনা। তাই হিংসা বশত কবিরাজ বা তান্ত্রিকদের কাছে গিয়ে যাদু করে।
২. শত্রুতা: আপনার পরিবার-পরিজন বা আশপাশেই মূলত শত্রুদের অবস্থান। দূরের কেউ আপনার শত্রু নয় বরং তাকিয়ে দেখলে দেখবেন আপনার বাসার পাশের লোকজন আপনার শত্রু, পাশের দোকানদার আপনার শত্রু। আপনার শত্রু নিজেকে বিজয়ী দেখতে কবিরাজ বা তান্ত্রিকদের কাছে গিয়ে যাদু করে।
৩. প্রতিশোধ : শত্রুতা আর প্রতিশোধ প্রায় কাছাকাছি। আপনি হয়ত কখনও তাকে আঘাত করেছেন অথবা কষ্ট দিয়েছেন কিন্তু আপনার শক্তি,ক্ষমতা অথবা তার দুর্বলতার কারনে আপনাকে কিছু করতে পারেনি...তখন সে উল্টো পথে হাটে... মানে কবিরাজ,তান্ত্রিক অথবা যাদুকরের কাছে যায় প্রতিশোধ গ্রহণ করার জন্য।
৪. বংশপরম্পরা: এ দেশের অধিকাংশ মানুষ এ যাদুতে আক্রান্ত। যেটাকে বলা হয় 'সি'হরুল মাউরুস'। আপনার বাবা,মা বা পূর্বপুরুষগণ কেউ যাদুতে আক্রান্ত ছিলেন, কিংবা যাদুকর, কবিরাজ ছিলেন। আল্লাহর ইচ্ছায় সে যাদু ধ্বংস না হওয়ায় বংশপরম্পরায় তা আপনিও পেয়েছেন। সাইন্সের ভাষায় জেনেটিক কিছু রোগ থাকে যা মানুষ বংশপরম্পরায় পায় তেমনি জ্বিন-যাদুর ক্ষেত্রেও অনুরূপ হয়।
৫. উদ্দেশ্য ভালো (!)কিন্তু পন্থা খারাপ: এটাকে পারিবারিক যাদুও বলা যায়।কারণ এই যাদু সাধারণত পরিবার থেকেই করা হয়। মা-বাবা কোনো কবিরাজ বা যাদুকরের কাছে যায় সন্তানকে বাধ্য হয় করার উদ্দেশ্যে, কিংবা পড়াশোনায় মনোযোগী করে তুলতে, স্ত্রী স্বামীকে করে যেনো ঝগড়া বিবাদ না হয়, ভাই-বোনকে/বোন-ভাইকে করে যেনো নিজেদের মিল মুহাব্বত বৃদ্ধি পায় ; এবং যাদুকর সেই উদ্দেশ্যে যাদু করে। এতে করে যাদুর মাধ্যমে উক্ত ব্যক্তি যাদুগ্রস্থ হয় এবং তার শরীরে শাইত্বানের অনুপ্রবেশের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়। এতে কোন কোন ক্ষেত্রে যদিও সাময়িক কিছু উপকার পাওয়া যায় কিন্তু পরিণামে অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়। ভিকটিম পাগল অথবা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায় কোন কোন ক্ষেত্রে যে উদ্দেশ্যে জাদু করা হয় তার উল্টোটা ঘটে।
দ্বিতীয়ত: শয়তানের পক্ষ থেকে যাদু।
শয়তানের পক্ষ থেকে যাদু দু’কারণে হতে পারে:
১. তান্ত্রিক যখন যাদুকে সক্রিয় রাখার জন্য তার সাথে জ্বিন চালান দেয়। তখন পেশেন্ট পজেসড হয়ে যায়। এবং এ জ্বিনই যাদুকর হয়। সে নিজেই পেশেন্টকে প্রতিনিয়ত যাদু করে।
২. কারো উপর প্রচুর পরিণামে আইন,হাসাদ(বদনজর, হিংসা) পতিত হলে শাইত্বান অই বদনজর-হিংসার মাধ্যমে ব্যক্তির শরীরে প্রবেশের সুযোগ পায়। এতে সে বদনজর অথবা হাসাদের খাদেম হয়ে যায় (অর্থাৎ যেসব কারণে মানুষের বদনজর-হাসাদ তার উপর পতিত হয়েছে শাইত্বান অই কারণসমূহ উক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাস্তবতায় রূপ নেয়ায়। পেশেন্টদের মারাত্মক আইন-হাসাদ দিতে থাকে এবং পেশেন্টের শরীরে নিজের প্রভাব ধরে রাখতে প্রতিনিয়ত যাদু করা শুরু করে।এই সমস্যার সবচেয়ে বেশি সম্মুখীন হন ত্বলিবুল ইলম যারা।
যাদু এবং জিন যতটুকুই ক্ষতি করূক না কেনো তা আল্লাহর হুকুম ছাড়া কোনো মানুষকে তার চাইতে অতিরিক্ত কোনোভাবেই ক্ষতির সুযোগ পায় না।
আল্লাহ আমাদের সমস্ত যাদুকরের যাদু থেকে হিফাজত করুন।