
অস্থিরতা থেকে সুস্থতার রুকইয়াহ ও আমল
অস্থিরতা (Anxiety) সব মানুষেরই কমবেশি রয়েছে। তবে তা যদি নিয়মিত হয়, তারই সাথে হাত-পা কাপা, শরীর দূর্বল হয়ে যাওয়া, মাথা ঘুরানো, সাফোকেশন হওয়া নিয়মিত হয়। তবে খুব বেশি সম্ভাবনা রয়েছে যে, আপনার বুকে ও মাথায় অস্থিরতার গিট ( عقدة الحزن و القلق ) রয়েছে। এই গিট যখন খুলে যাবে, ইন শা আল্লাহ এ সমস্যা ধীরে ধীরে একেবারে কমে যাবে।
অস্থিরতা ( Anxiety) থেকে সুস্থতার রুক্বইয়া
ক. এনজাইটি হওয়ার পেছনে মৌলিকভাবে দুটো বিষয় মৌলিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। একটি হলো ভয় ( Phobia) আর দ্বিতীয়টি হলো ওয়াসওয়াসা (OCD)। অধিকাংশক্ষেত্রে মৌলিক এ দুকারণেই এনজাইটি তৈরি হয়। একারণে আমাদের বুককে টার্গেট করে রুক্বইয়া করতে হবে। বুকে হাত দিয়ে প্রত্যেক সালাতের পর ৫-৭ মিনিট গিট ধ্বংসের নিয়তে সূরা ফালাক পাঠ করুন।
খ. বমির মাধ্যমে বুকে থাকা কফ বের করা। সাধারনত যাদু,হাসাদ অথবা বদনজর এর গিট কফ হিসেবে বুকে জমা হয়। ১ লিটার পানি নিতে হবে এবং তাতে ২ চামচ বরইপাতা বাটা মিক্স করতে হবে এবং তাতে খুরুজ এর আয়াতগুলো পড়ে দিয়ে তৈরি করতে হবে। অত:পর এই পানি খেয়ে বমি করতে হবে। নিয়ত থাকবে আল্লাহ যেন বুকে জমে থাকা সমস্ত গিট ধ্বংস করে দেন।
গ. অস্থিরতার পেছনে অপর একটি কারণ হলো আইন-হাসাদের ব্যাপক প্রভাব। আইন-হাসাদ ধ্বংসের নিয়তে শাইখ লুহাইদান এর কমন রুক্বইয়া তিলওয়াতটি শোনা। এবং রুক্বইয়া চলাকালীন কান্না করার চেষ্টা করা। নিয়ত থাকবে কান্নার মাধ্যমে যেন আল্লাহ অস্থিরতার সমস্ত আইন-হাসাদকে ধ্বংস করে দেন।
ঘ. ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করা। প্রচলিত এবং প্রসিদ্ধ বদনজর এর আয়াতসমূহ গোসলের পানিতে পড়ে ফু দেয়া এবং সুস্থতার নিয়তে গোসল করা।
ঙ. এ সমস্ত সাজেশন ৭/১৪/২১ দিন ফলো করা। সমস্যার তীব্রতা অনুযায়ী ফলো করা যেতে পারে। এরপরও সমস্যা না কমলে সরাসরি রুক্বইয়া সেশন গ্রহণ করা অন্যতম সমাধান হতে পারে। অসংখ্য পেশেন্ট আমাদের নিকট সরাসরি রুক্বইয়ার মাধ্যমে Anxiety থেকে মুক্তি পেয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
অস্থিরতা ( Anxiety) থেকে বেচে থাকতে কিছু টিপস
ক. যে বিষয় বা যে চিন্তা আপনাকে অস্থির করে তোলে তা এভয়েড করা। অন্যকাজে নিজেকে মগ্ন করানো জরুরি। মনে রাখতে হবে শয়তান আপনাকে ওয়াসওয়াসা দিয়ে কেবল অস্থির করার চেষ্টা করছে।
খ. অস্থিরতার সময়ে দুরুদ পাঠ যথেষ্ট কার্যকরী। বুকে হাত দিয়ে দুরুদ পাঠ করতে পারেন। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
গ. আরও ১০ জন মানুষকে অবজারভ করা যারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তাদেরকে দেখে নিজেকে শান্ত রাখা।
ঘ. ভবিষ্যতের বিষয়ে Anxiety দূরীকরণের কার্যকরী উপায় হলো আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখা এবং সুধারণা পোষণ করা।
ঙ. Box breathing exercise করা। ৪ সেকেন্ড শ্বাস নেয়া, ৪ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখা, ৪ সেকেন্ড শ্বাস ছেড়ে দেয়া, আবার ৪ সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখা। কয়েকবার করলে থিনকিং, ওয়াসওয়াসা দূর হয়ে যাবে। সাময়িক রিলিফ ইনশাআল্লাহ।
চ. নিয়মিত ৬-৭ ঘন্টা ঘুমানো, এমন খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখা যা আমাদের নার্ভাস সিস্টেমকে ওভারএক্টিভ করে দেয়, এড্রিনালিন এবং কর্টিসল হরমোন সিক্রেশন করে। যেমন: অতিরিক্ত চা-কফি, ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত সুগার গ্রহণ করা, প্রসেস ফুড ইত্যাদি নেয়া।